Story

মায়ের চিকিৎসাই এখন মূল উদ্দেশ্য, লকডাউনেই ১৪০ কিলোমিটার সাইকেলে পারি দিলেন যুবক

পৃথিবীতে মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের মধ্যে যে পবিত্রতা আছে তা আর অন্য কোনো সম্পর্কে নেই। মা তার সন্তানের ভালোর জন্য সবকিছু করতে পারে। এমনকি যেকোনো সীমা-পরিসীমা পর্যন্ত যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে মা নয় নজির গড়লেন এক সন্তান।

মায়ের মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া না গেলে তার চিকিৎসা শুরু করা যাবে না। তার মধ্যে চলছে রাজ্য জুড়ে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে ঐ যুবক সাইকেলে করে ১৪০ কিলোমিটার সাইকেলে চালিয়ে মায়ের মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে এসে নজির গড়লেন সামশেরগঞ্জ থানার চাচণ্ড গ্রামের মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমান তা মায়ের নিয়ে সামশেরগঞ্জ থানার চাচণ্ড গ্রামে থাকেন। মা-ছেলের ছোট্ট সংসার তাদের। ঘুগনি বিক্রি করেই মা-ছেলের সংসার চলে।

ঘুগনি বিক্রি করাই মিজানুরের পেশা। তার মা হঠাৎই একদিন অসুস্থ হয়ে পরেন। মিজানুর চিকিৎসার জন্য মাকে নিয়ে যান ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার চিকিৎসা শুরু করার আগে কতগুলো মেডিকেল টেস্ট করাতে দেন তার মাকে।

এরপর এমআরআই করানোর জন্য তিনি মাকে নিয়ে যান মালদা মেডিকেল কলেজে। ঈদের পর মায়ের টেস্টের রিপোর্ট আনতে যান মিজানুর। তবে হাসপাতাল থেকে তাকে ঐ সময় রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।

এর পর থেকেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়ে যায় লকডাউন। কিন্তু মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট না পেলে চিকিৎসা শুরু করা যাবে না মায়ের। এই কথাই মিজানুরের মাথায় ঘুরছিল। এরপরই কোনো দিক না ভেবে ১৪০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে মায়ের টেস্টের রিপোর্ট আনতে যান চাচণ্ড গ্রামের যুবক, মিজানুর।

প্রায় ৯ ঘন্টা সাইকেল চালিয়ে মায়ের মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে আসেন তিনি। টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া না গেলে মায়ের চিকিৎসা শুরু হবে না।

মায়ের চিকিৎসা শুরু করাই মিজানুরের মূল উদ্দেশ্য। তাই এমন কাজ করেছেন তিনি। নিজের অজান্তেই মাতৃভক্তির নজির গড়লেন মিজানুর রহমান।

আজকের দিনে যেখানে বহু ছেলে তার মায়ের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে সেখানে মিজানুর মায়ের প্রতি ভালোবাসার এমন নজির গড়লেন। এরপর থেকেই এলাকার লোক তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও মিজানুর তার এমন কাজের জন্য ভাইরাল হয়ে গেছেন। তবে মিজানুর এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী নন। তার মূল উদ্দেশ্য হল মায়ের চিকিৎসা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button