Story

‘যা করেছি বেশ করেছি’, ইন্ডাস্ট্রির ‘ভয়ঙ্কর দে’, একসময় নিজেই কাজ চাইতে দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের কাছে

চলতি বছরেই অভিনেতা দীপঙ্কর দের পা রেখেছেন ৭৭ বছর বয়সে। চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি প্রায় আশির দোড়গোড়ায় এসে পৌঁছেছেন। আজকের জামশেদপুরে ১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন দীপঙ্কর দে। জন্মের পর ভালবেসে নাম রাখা হয়েছিল ‘টিটো’। দীপঙ্কর দের মত অকপট বর্ণময় চরিত্র বিনোদনের যেকোনো দুনিয়াতে বিরল।

বাংলা চলচিত্র জগতকে দিয়েছেন একের পর এক উল্লেখযোগ্য ছবি। যদিও প্রথম থেকে খুব একটা সিনেমা জগৎ নিয়ে তিনি অত ভাবেননি। বলা যেতে পারে তার অভিনয় করা নিয়ে তার থেকে তার বন্ধু-বান্ধবদের উৎসাহ ছিল অনেক বেশি। প্রথমে বিজ্ঞাপনের অফিসে কাজ করতেন দীপঙ্কর দে। তখন অভিনয় করেন অফিসে এবং ক্লাবে। সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় অভিনেতার।

সেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই পৌঁছে গিয়েছিলেন স্বয়ং কিংবদন্তি স্বনামধন্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের দোরগোড়ায়। অভিনেতা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যখন তিনি তার বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন তখন নিজের হৃদস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিলেন অভিনেতা। তবে প্রথমে তাকে প্রত্যাখ্যান হতে হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের ডিরেক্টরি খুঁজে আগের দিনই ফোন করে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিয়েছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের কাছ থেকে। তার পরেও ফিরে যেতে তার মন চাইছিল না। তাই জন্য তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসার পরেও ক্রমাগত বাড়ির নিচে পায়চারি করছিলেন। তারপর আবার সাহস সঞ্চয় করে গিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়ের কাছে।

‘সীমাবদ্ধ’ ছবির জন্য কাস্টিং ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও কথা বলতে চেয়ে ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের সাথে। কথা বলার পরেই প্রথমবার দেখে মনে মনে স্কেচ করতে শুরু করেছিলেন পরিচালক। তারপরে মুখ তুলে জিজ্ঞাসা করেন,”একটা ছোট চরিত্র আছে চলবে?” এই কথা শুনে নবাগত দীপঙ্কর দে স্বর্গ পেয়েছিলেন। প্রথম ছবিতেই অভিনয় সত্যজিতের পরিচালনায়। ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় এই ছবি। বরুণ চন্দ্র সরকারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা দীপঙ্কর দে। এর পরে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সফলতা যেন তার দরজার গোড়াতেই দাঁড়িয়েছিল।

একের পর এক ছবি করে গিয়েছেন তার পর থেকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – ‘জনঅরণ্য’, ‘বাঞ্ছারামের বাগান’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘সুবর্ণগোলক’, ‘পরমা’,‘অমরকণ্টক’, ‘গণশত্রু’, ‘শাখাপ্রশাখা’, ‘আগন্তুক’, ‘উনিশে এপ্রিল’, ‘উৎসব’, ‘তিতলি’, ‘আবহমান’ ও ‘হেমলক সোসাইটি’ ৷ তবে ক্যারিয়ারের শীর্ষে নায়ক থেকে হঠাৎই সরে গিয়েছিলেন খলনায়কের ভূমিকায়।

এই খলনায়কের ভূমিকায় সরে যাওয়ার কারণ তিনি নিজে বলেছিলেন, তপন সিনহার ‘বাঞ্ছারামের বাগান’-এর পর শুরু হয়েছিল এক নতুন রীতি। সেই সময় উৎপল দত্তের মৃত্যুর পর খলনায়ক এর দুনিয়ায় একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। এরই ফলে তারা বেশ কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে গিয়েছেন দীপঙ্কর।

সাদাকালো দূরদর্শন থেকে রঙিন উপগ্রহ চ্যানেলে অপ্রতিরোধ্য এই শিল্পী। বড় পর্দার পাশাপাশি দাপটের সাথে অভিনয় করেছেন বিভিন্ন টেলিভিশনের অনুষ্ঠানেও। বিদেশি এক নাটকেই আলাপ হয় দোলন রায়ের সাথে। এর আগে যদিও তাদের পরিচয় থাকলেও সেই সময়ে সম্পর্ক আবদ্ধ ছিল সিনিয়র জুনিয়রের গণ্ডিতেই।

যদিও প্রথম আলাপে দোলন দে জানতেন ‘ভয়ঙ্কর দে।’ তারপরে বয়সের ব্যবধান নস্যাৎ করে তাদের মধ্যে প্রেম এসেছে। দীর্ঘ দশক ধরে লিভিং সম্পর্কে আবদ্ধ থাকার পর গত বছরে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন অভিনেতার সাথে। সমস্ত নিন্দা অপবাদ উড়িয়ে দিয়ে দুজনেই জোর গলায় বলেছেন,”আমরা যা করেছি বেশ করেছি।”

Related Articles

Back to top button