বিনোদন

“তৃণমূল সরকার অনশনকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করছে, অহিংস আন্দোলনে ১৪৪ ধারা জারি হল কেন? করুণাময়ী কাণ্ডে সরব হলেন অপর্না, এছাড়া নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বামপন্থী ঋদ্ধি শ্রীলেখারা

আমাদের সকলেরই জানা বর্তমানে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণকারীরা সকলেই চাকরির পাওয়ার আশায় আন্দোলনে বসেছেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁদেরকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটার পর পরের দিন সকাল অর্থাৎ শুক্রবার দিন সকাল বেলায় এ বিষয়ে সরব হন অপর্ণা সেন। আজ অর্থাৎ শুক্রবার অপর্ণা সেন টুইট করে লেখেন, “তৃণমূল সরকার অনশনকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। অহিংস আন্দোলনে ১৪৪ ধারা জারি হল কেন? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই অগণতান্ত্রিক এবং অনৈতিক কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাই”।

তবে শুধু অপর্ণা সেন নয় এই ঘটনা তীব্র বিরোধিতা জানিয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র, ঋদ্ধি সেন এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্যও। অভিনেতার ঋদ্ধি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “ধিক্কার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশকে এক শান্তিপূর্ণ, যোগ্য আন্দোলনের গায়ে এমন বীভৎস আঘাত করার জন্য। এই জঘন্য কাজের মাশুল গুনতে হবে রাষ্ট্রকে”।

বামপন্থী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র লেখেন, “চোরেরা বাইরে আর শিক্ষিতদের জেলে ভরছে পুলিশ! সবাই এখন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা বলছে। কিন্তু এই মানুষগুলোর কথা কারা বলছে? সৌরভের মতো মানুষরা কেন এদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন না? কেন ওদের হয়ে দু’টো কথা বলছেন না। অপর্ণা সেন তো বললেন! আর কোথায় লোকজন!” পাশাপাশিই অভিনেত্রী আরো বলেন, “আমি বলি বলে আমায় কাজ দেওয়া হয় না। আমি কেন চটিচাটা দলে নেই! কার্নিভাল বুঝি না। রাজ্যে শিক্ষা চাই, স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাই। এখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করা উচিত!”

এছাড়াও একটি বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম কে অনির্বাণ ভট্টাচার্য বলেন, “কোন যোগ্য লোক প্রাপ্য পাচ্ছেন এই রাজ্যে, এই দেশে, যে আজ হঠাৎ পাবে! এতো দীর্ঘ ইতিহাস। যাঁদের প্রতিবাদ করার তাঁরা করছেন। যাঁদের সংবিধানের উপর আশ্বাস আছে, তাঁরা একভাবে প্রতিবাদ করছেন, যাঁদের নেই তাঁরা আবার আরেকভাবে করছেন। এই যে শিল্পীরা যাঁদের বুদ্ধিজীবী বলে গালি দেওয়া হয়, তাঁরা ধিক্কার জানাচ্ছেন। এবার তাঁরা ধিক্কার খাবেন। এইভাবেই এক অন্যায়ের দিকে সাঁতার দিতে দিতে আরেক অন্যায়ের দিকে চলে যাবো। আর কোট দিতে থাকব। পুলিসের একটা লাঠি একজনের গায়ের পড়া, আর কোট দেওয়া, এই যে দূরত্বটাই আমাদের সমাজের গ্যাপ।

আমারা কোট দিতেই থাকব কারণ, আমাদের কাজ থিয়েটার, সিনেমা, এটা তো আর যথেষ্ট হচ্ছে না। আমাদের কোট দিতে হবে, তাতে কেউ সমর্থন করবেন, কেউ করবেন না। এটা পুরোটাই একটা প্রক্রিয়া। তবে কোনও বিশিষ্ট মানুষ হিসাবে নয়, সাধারণ একজন মানুষ হিসাবেই চাইব যোগ্যরা প্রাপ্য সম্মান পাক। যেন কোনও অন্যায় না হয়। এমন কোনও সরকার যেন না থাকে। সব জায়গায় যেন এমন সরকার থাকে যাঁরা যোগ্য, পিছিয়ে পড়া মানুষকে আলো দেখাবেন। যে চিঠিতে সই করেছি, তাতে এই ঘটনাকে ধিক্কার জানানো হয়েছে। তবে অসাংবিধানিক ঘটনা এই প্রথম নয়। কালকের যে ঘটনা, তার শুরুও কালকে রাতে নয়। এটা যতদিন না পিপলস সোসাইটি সমস্ত এই ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে গর্জে উঠবে এটা ততদিন চলবে। এটা তো আজকের ঘটনা। এখন চাকরিপ্রার্থীদের লাঠি নিয়ে কথা বলব, দুঘণ্টা পর সিনেমা নিয়ে বাইট দেব। সেই সমাজে এমনই হবে। তবে যে চিঠিতে সই করেছি, তাতে সহমত বলেই করেছি। সহমত না হলে সই করতাম না”।

Related Articles

Back to top button