বাংলা সিরিয়াল

‘তোমার গলার স্বর আমার বুকে আছে বাবা’, ছেলে বড় চাকরি করে! তাকে রেখে গেছে বৃদ্ধাশ্রমে, দৃষ্টিহীন মায়ের মন্তব্যে আবেগপ্রবণ পর্দার ‘বামাক্ষ্যাপা’

প্রথম নয়, বেশ কয়েকবার খবরের পাতায় উঠে এসেছে ‘বামাক্ষ্যাপা’ ওরফে সব্যসাচী চক্রবর্তীর নাম। রাজ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই নিজের সামর্থ্যে এগিয়ে এসেছেন ত্রাণ নিয়ে, খাবার নিয়ে ছুটে গিয়েছেন দিকে দিকে। যশ পরবর্তিতে পৌঁছে গিয়েছে যশ বিধ্বস্ত এলাকায়। এক মুহূর্ত স্থির নেই। প্রতিনিয়ত ছটে বেরচ্ছেন মানুষকে সাহায্য করতে।

এবার সব্যসাচীর স্যোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ধরা পড়ল অন্য ছবি। রবিবার দক্ষিণ বারাসতের এক বৃদ্ধাশ্রমে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বামাক্ষ্যাপা ও তাঁর টিম। সেখানে বৃদ্ধাশ্রমের এক বৃদ্ধার সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। তারপর অভিনেতার যে অভিজ্ঞতা তা বোধহয় তিনি নিজেও আশা করেননি।

ফেসবুকে সব্যসাচীর করা পোস্ট অনুযায়ী, আজ এক মায়ের সাথে আলাপ হল। বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুব্জ হয়েছেন। সময়ের স্রোতে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেছে তাঁর দৃষ্টিশক্তি।

তবে চেহারাতে এখনও আভিজাত্য বজায় আছে। কালীঘাটে বাড়ি, ছেলে ভালো চাকরি করে, নিজের পরিবার নিয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টিহীন মাকে নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। চিকিৎসা করানোটাও একরকম পয়সা নষ্ট বৈকি। অতএব মায়ের ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।

বৃদ্ধা দৃষ্টি হারিয়েছেন অনেক দিন হয়েছে। কিন্তু তাঁর নাকি বামাক্ষ্যাপার গলা মুখস্থ। নিয়ম করে নাকি আশ্রমের টিভিতে মহাপীঠ তারাপীঠ ‘শোনেন’।

সব্যসাচীর দু’হাত ধরে বৃদ্ধা জানিয়েছেন, বামাক্ষ্যাপার গলার স্বর আমার বুকে আছে বাবা। শত বাঁধা দেওয়া সত্ত্বেও আমায় গড় হয়ে প্রণাম করলেন তিনি। কিন্তু পরের ঘটনার জন্য হয়তো প্রস্তুত ছিলেন না সব্যসাচী।

ছেলে দেখে না মাকে, ভাল চাকরি করা সত্ত্বেও বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছেন একলা মাকে। প্রণাম সেরে বামাক্ষ্যাপাকে বলেন, আমার ছেলে বড় চাকরি করে, আমার যাতে কোনো কষ্ট না হয় তাই এখানে রেখেছে। খুব ভালো ছেলে আমার, ওকে একটু আশীর্বাদ করো বাবা।

একজন মায়ের এমন দূর্দশার কথা জানতে পেরে বেশ কিছুক্ষন বাহষা ফোটেনি অভিনেতার কন্ঠে। তাই পোস্টের শুরুতে উল্লেখ করেছিলেন, মা কাকে বলে জান? এমন একটি মানুষ যার ওপর রাগ দেখানো যায়, অভিমান করা যায়, অপমান করা যায়, ‘তুমি ওসব বুঝবে না’ বলে পাশ কাটানো যায়… জিনিসটাই কেমন যেন আঠালো, চটচটে একটি বস্তু।

ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও যায় না, ঘেঁটি ধরে দূর করে দিলেও আবার বেড়ালের মতন ফিরে আসে। পা দিয়ে মাড়িয়ে চলে গেলেও উল্টে জিজ্ঞাসা করে “লাগেনি তো?” …।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button